জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত গার্মেন্টস খাত, উৎপাদন কমে বাজার হারানোর শঙ্কা

image_pdfSaveimage_print

ডেস্ক নিউজ : দেশে তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হানছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং, ডিজেলের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সব মিলিয়ে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনেক কারখানায় দিনে ১০ ঘণ্টার মধ্যে ৫-৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে ডিজেল সংকটের কারণে সেটিও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে অনেক কারখানায় কাজ বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমে গেছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে।

জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদন কমায়নি, বরং ব্যয়ও বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। আগে যেখানে মাসিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ ছিল ১৫-১৬ লাখ টাকা, এখন তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কারখানা মালিক।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—যা সামগ্রিক উৎপাদন খরচকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ মাসে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, আর চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবেও প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় রয়েছে।

উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সামনের মাসগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে বাংলাদেশি পোশাক খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন অর্ডার কমে যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা অপেক্ষায় থাকছে অথবা বিকল্প বাজার খুঁজছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতারা অন্য দেশে ঝুঁকে পড়তে পারেন—যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার কিছু তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে। পোশাক কারখানাগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ সহজ করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না এলে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমবে, রপ্তানি হ্রাস পাবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে।

অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

  • Related Posts

    আনসার-ভিডিপি সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে

    ডেস্ক নিউজঃ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  বুধবার (২০…

    আনসার-ভিডিপি সদস্যদের হাত ধরে প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী

    ডেস্ক নিউজঃ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আনসার-ভিডিপির গর্বিত সদস্যদের হাত ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন। তিনি বলেন, বৈষম্যমুক্ত ও…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    ফেইক আইডিতে অপপ্রচার ও কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক শহিদুল হাসান

    ফেইক আইডিতে অপপ্রচার ও কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক শহিদুল হাসান

    প্রতিদিন মাত্র ৬৮ টাকার সহজ কিস্তিতে নতুন অপো এ৬সি

    প্রতিদিন মাত্র ৬৮ টাকার সহজ কিস্তিতে নতুন অপো এ৬সি

    বিআইডব্লিউটিএতে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ: হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে আশরাফুজ্জামানকে নিয়ে বিতর্ক

    বিআইডব্লিউটিএতে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ: হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে আশরাফুজ্জামানকে নিয়ে বিতর্ক

    আনসার-ভিডিপি সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে

    আনসার-ভিডিপি সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে

    ওমানে নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে, পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে কবর

    ওমানে নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে, পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে কবর

    ৩ জেলার জন্য সতর্কবার্তা, নদীবন্দরে হুঁশিয়ারি সংকেত

    ৩ জেলার জন্য সতর্কবার্তা, নদীবন্দরে হুঁশিয়ারি সংকেত