শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

image_pdfSaveimage_print

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের দ্বিতীয়টিতে অভিযোগে ফাঁসির রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।  

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন (১৭ নভেম্বর) দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেসব বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন তিনি। পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের কয়েকটি বিষয়ে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও আসামি। তবে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ায় যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা-কামালের চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও তার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল প্রসিকিউশন। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও তার অ্যাকুইটাল (খালাস) চেয়েছেন।

এ মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ। এরপর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

  • Related Posts

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সব দল অঙ্গীকারবদ্ধ : তথ্যমন্ত্রী

    সব দল মিলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সব দল মিলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। যে কোনো মূল্যে এটি বাস্তবায়নে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।…

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রী তার নিজ কার্যালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এই…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সব দল অঙ্গীকারবদ্ধ : তথ্যমন্ত্রী

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সব দল অঙ্গীকারবদ্ধ : তথ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

    প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি যে পাঁচ জেলায়

    ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি যে পাঁচ জেলায়

    রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫০৬, মাদক-অস্ত্র উদ্ধার

    রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫০৬, মাদক-অস্ত্র উদ্ধার

    তেল বিক্রির আয় দেড় গুণ বেড়েছে ইরানের

    তেল বিক্রির আয় দেড় গুণ বেড়েছে ইরানের