ডেস্ক নিউজ : দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বা বেসিক একলাফে ২০ হাজার টাকা করার এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কমিটি এখন জোরেশোরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নতুন এই বৈপ্লবিক পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু মূল বেতনই বাড়বে না, বরং এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা এবং আর্থিক সুবিধাতেও একটি বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সব গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি করার এই জোরালো সুপারিশ দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন এই নবম পে-স্কেলেও সরকারের বর্তমান ২০টি গ্রেডের প্রশাসনিক কাঠামোটি সম্পূর্ণ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেড অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিটি গ্রেডের আর্থিক মানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন এই কাঠামোতে সর্বশেষ তথা ২০তম গ্রেডের (সর্বনিম্ন স্তর) একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে সরাসরি ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একই সাথে বৈষম্য দূরীকরণে প্রথম গ্রেডের (সর্বোচ্চ স্তর) কর্মকর্তাদের মূল বেতন বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার দূরদর্শী প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বিশাল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনাটি দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাস্তবায়নের মুখে থাকা এই নবম পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাবনাটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অনুমোদন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত এবং চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী আশা করছেন, আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই এই প্রস্তাবনাটি পাস হয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপনে রূপ নেবে।










