প্রবেশ করল মৌসুমি বায়ু, বর্ষাকালের সূচনা

image_pdfSaveimage_print

ডেস্ক নিউজঃ ছয়দিন পরেই বর্ষাকাল। আষাঢ় আসছে। তার আগে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শেষ প্রান্ত টেকনাফ দিয়ে প্রবেশ করেছে বর্ষাবাহী মৌসুমি বায়ু। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এক সপ্তাহ দেরিতে এলো এই সঘন মেঘমালা নিয়ে বায়ু। দেশে সাধারণত ৩১ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা সারা দেশে ছড়াতে মধ্য জুন অব্দি লেগে যেতে পারে। তবে আগামী ১২ কিংবা ১৩ জুন থেকে কিছুটা বর্ষার বৃষ্টির আমেজ শুরু হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখনই ভ্যাপসা গরম-তাপপ্রবাহ প্রশমিত হচ্ছে না; মৌসুমি বায়ু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আগামী ৮ কিংবা ৯ জুন থেকে আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে তা দুই-তিন দিন থাকতে পারে। আগত বর্ষাবাহী মৌসুমি বায়ুকে এখন লড়তে হবে সক্রিয় পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, এই দুই বায়ুপ্রবাহের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি কিছুটা কমে যেতে পারে। তিনি জানান, বিশেষ করে ৯ থেকে ১০ জুন বৃষ্টি কম হতে পারে। সারা দেশে মৌসুমি বায়ু ছড়িয়ে পড়তে চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুপ্রবাহ এল নিনোর সক্রিয়তার কারণেই এবার বৃষ্টি কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে মোট বৃষ্টির বেশির ভাগ হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হয় জুনে। টানা কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের পর শুক্রবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে দীর্ঘক্ষণ শীতলতা থাকে না। কিন্তু পুবালি বাতাস আসার পর প্রকৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী শীতলতা দেখা দেয়। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার কী ধরনের পরিবর্তন হয়ে থাকে এমন প্রশ্নে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, গ্রীষ্মকালীন মেঘ ও বাতাস সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে; মৌসুমি বায়ু প্রবেশে ফলে এখন তা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হবে। এছাড়া, দক্ষিণা বাতাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়ে দেশে এক ধরনের স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার ধারা সৃষ্টি হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর এই আগমন কৃষিখাতের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের জন্য এই বৃষ্টিপাত অত্যন্ত সহায়ক হবে। তবে টানা ভারী বৃষ্টিতে সবজি খেতের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, গ্রীষ্মকালীন হঠাত্ বৃষ্টিতে ক্ষণিকের স্বস্তি মিলে; এখন মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হতে পারে। এতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।
  • Related Posts

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজঃ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেজনক হাম এবং নিশ্চিত হামে মোট আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে…

    সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে ফ্রান্সে যেতে চান রাজশাহী সিটির প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

    ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব অনুমোদন দেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন এমন কর্মকর্তার বিদেশ…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    বিশ্বকাপে বেশি গোল করবেন মেসি না রোনালদো? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপ্পের

    • By Reporter
    • জুন ৮, ২০২৬
    • 0 views
    বিশ্বকাপে বেশি গোল করবেন মেসি না রোনালদো? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপ্পের

    তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

    • By Reporter
    • জুন ৮, ২০২৬
    • 1 views
    তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু

    সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে ফ্রান্সে যেতে চান রাজশাহী সিটির প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

    সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে ফ্রান্সে যেতে চান রাজশাহী সিটির প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

    বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়

    বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়

    ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

    ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন