আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে এক বিস্ফোরক ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার ছবি ও নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তেহরানের শাসনব্যবস্থার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রক্ষণশীল ও উসকানিমূলক সুরের জন্য পরিচিত ‘হামশাহরি’ নামের গণমাধ্যমটির অনলাইন সংস্করণে শনিবার গভীর রাতে এই লক্ষ্যবস্তুদের তালিকা (ইনফোগ্রাফিক) প্রকাশ করা হয়। এর ঠিক আগেই ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তবে তার এই বিবৃতির পরপরই হামশাহরি পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে একটি বিশেষ ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। যদিও এই তালিকাটি ইরানের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কি না তা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে তেহরানের সরকারি মহলে এই গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
হামশাহরির প্রকাশিত সেই ইনফোগ্রাফিকটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছবি রয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা—পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস-এর ছবিও সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ জনের এই তালিকায় থাকা বাকি নেতাদের নাম প্রকাশ করা না হলেও, ইনফোগ্রাফিকটি কেবল অনলাইনেই দেখা গেছে এবং রবিবার প্রকাশিত পত্রিকার মূল প্রিন্ট সংস্করণে এটি রাখা হয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলাকালে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুমতি দিয়েছিল। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনকে এই সামরিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোও এই যুদ্ধে সরাসরি ওয়াশিংটনের অংশীদার ও অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়েছে। ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার হুংকার এবং এই ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।









