ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির নয়, এটি দুই কোচেরও এক বিশেষ অধ্যায়ের গল্প। স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি একসময় ছিলেন শিক্ষক ও ছাত্র। এবার বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই দুইজনই দাঁড়িয়েছেন একে অপরের বিপরীতে।
রবিবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। মাঠে লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামালদের লড়াই যতটা আলোচনায়, ডাগআউটে দে লা ফুয়েন্তে ও স্কালোনির পুনর্মিলনও ততটাই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
২০১৭ সালের শেষ দিকে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্কালোনি। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ‘লা রোজাস’ ট্রেনিং সেন্টারে প্রফেশনাল কোচিং লাইসেন্স কোর্সে ভর্তি হন তিনি। সেই কোর্সের অন্যতম প্রশিক্ষক ছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। কোচিংয়ের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছিলেন বর্তমান আর্জেন্টিনা কোচ।
কোর্স শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই আর্জেন্টিনার অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পান স্কালোনি। পরে তাঁর অধীনে আর্জেন্টিনা জেতে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ।
অন্যদিকে ২০২২ সালের শেষ দিকে স্পেনের দায়িত্ব নিয়ে দে লা ফুয়েন্তেও দলকে নতুন সাফল্যের পথে ফেরান। তাঁর অধীনে ইউরো ২০২৪ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে ওঠে স্পেন। এবার দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালেও তুলেছেন তিনি।
ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাবেক শিক্ষককে নিয়ে আবেগ প্রকাশ করেন স্কালোনি বলেন,‘তিনি আমার মেন্টর ছিলেন। কোচিংয়ের অনেক কিছুই তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ানো বিশেষ অনুভূতি। তিনি স্পেনের সঙ্গে অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
তবে আবেগের জায়গা থাকলেও মাঠে ছাড় দিতে রাজি নন আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন,‘স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। সেখানে আমার পরিবার রয়েছে। কিন্তু আজ আমি দুঃখিত, কারণ মাঠে আমি মিস্টার দে লা ফুয়েন্তেকে হারাতেই চাই।’
শিষ্যের প্রশংসায় উদার ছিলেন দে লা ফুয়েন্তেও। তিনি বলেন, ‘স্কালোনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র। লিওনেলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। শিক্ষক হিসেবে সে ছিল আদর্শ ছাত্র। ক্লাসে ওর শেখার আগ্রহ দেখেই বুঝেছিলাম, সে অনেক দূর যাবে। আজ সে আর্জেন্টিনার হয়ে সবকিছু জিতেছে। ওর শিক্ষক হতে পেরে আমি গর্বিত।’
শুধু পেশাগত সম্পর্ক নয়, ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথাও তুলে ধরেন স্পেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের। বিশ্বকাপ ফাইনালে আমরা প্রতিপক্ষ হলেও সেই সম্মান অটুট থাকবে।’









