কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে তাদের ফেরার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। এ দেশের রাজনীতি তারাই হত্যা করেছে। তারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছিল, অসংখ্য মানুষ ঘুম হয়েছিল, গুম হওয়া সবাই ফিরে আসেনি এখনো। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ এখনই রাজনীতিতে চলে আসবে?
আজ শুক্রবার সকালে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে সার্কিট হাউসে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, আওয়ামী লীগ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি, সামান্য অনুশোচনাও নেই তাদের। যে দল এ দেশের অসংখ্য মানুষকে গুম করল, খুন করল, অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করল, একটা জেনারেশনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেল, তাদের কোনো অনুশোচনা দেখা গেল না। শুধু দল ভারী করার জন্য তাদের রাজনীতিতে আনা অন্যায়, জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কারো করা উচিৎ হবে না।
তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। জায়গাটা সরকার যত সামাল দেবে বাংলাদেশের ততো সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সংসদের ভেতরে অবশ্যই সহযোগিতা করছি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার, সেখানে বিরোধিতা করছি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো আমরা দুই মেরুতে আছি। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপমান করতে দেয়া হবে না।
জাতীয় সংকট মোকাবেলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেলের সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল একযোগে পদক্ষেপ নেয়ার পরই জ্বালানি তেলের সংকট কেটে যায়। অথচ কেউ অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করেনি। এতে বোঝা যায়, সমন্বিত উদ্যোগ অনেক সংকটের কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।এক সময় সংসদে মারামারি হয়েছে। ফাইল ছুড়ে মারা হয়েছে। একে অন্যের দিকে তেড়ে গেছে। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরা সে পার্লামেন্ট চাই না। আমরা একটা সভ্য জগতের পার্লামেন্ট দেখতে চাই। এজন্য প্রথম দিন থেকে বিরোধীদল হিসেবে আমাদের ভূমিকা ছিল গঠনমূলক এটা আমরা অব্যাহত রাখব। কোনো উস্কানিতেই এ জায়গা থেকে আমরা সরে আসব না।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় ছিলেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো. মশিউর রহমান , বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীমসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
পরে তিনি বাগেরহাট কামিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।









