ক্রীড়া ডেস্ক : মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ।
জবাবে মালয়েশিয়া ৪০.৫ ওভারে ১৩৭ রানে অলআউট হয়েছে। ফলে ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশের যুবারা।
শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ছিল বেশ কঠিন। দুই ওপেনার জাওয়াদ আব্রার ও ইকবাল হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে শুরুতেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
জাওয়াদ ৮ বলে ৫ এবং ইকবাল ৩ বলে শূন্য রানে আউট হন। এরপর কালাম সিদ্দিকী ৫৬ বলে ৩৪ রান করে ইনিংস কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় একটা সময় বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
সেই জায়গা থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও আহরার আমিন। দু’জনের ব্যাটে বাংলাদেশের ইনিংস পায় স্থিরতা ও গতি। আবদুল্লাহ এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ১০০ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৯৪ রান করেন তিনি। মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পেলেও তার ইনিংসটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
অন্যদিকে আহরার ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। ৬২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। আবদুল্লাহর সঙ্গে তার জুটি মালয়েশিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে। দু’জন মিলে যোগ করেন ১৫৫ রান, যা বাংলাদেশের মোট সংগ্রহের অর্ধেকেরও বেশি। শুরুর ধাক্কা সামলে এই জুটিই বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরায় এবং শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়।
আবদুল্লাহ-আহরারের জুটি ভাঙার পরও বাংলাদেশের রান থেমে থাকেনি। শেষ দিকে শেখ জীবনের দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংসে নতুন গতি এনে দেয়। মাত্র ১৮ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ কয়েক ওভারে জিবনের এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণেই বাংলাদেশের স্কোর ২৯০ রানে পৌঁছায়।
২৯১ রানের লক্ষ্য মালয়েশিয়ার জন্য শুরু থেকেই কঠিন ছিল। বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে নিয়মিত উইকেট তুলে নেওয়ায় রান তাড়ায় কখনওই ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। সাইফ উল্লাহ মালিক ৩৮ বলে ২১, বিজয় উন্নি ৩৮ বলে ১২ এবং সৈয়দ জুনাইদ খান ২৬ বলে ২১ রান করেন। তবে কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
মালয়েশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আহমাদ জুবাইদি। ৬৬ বলে ৪২ রানের ইনিংসে তিনি দুটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান। কিন্তু তার প্রতিরোধও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বাংলাদেশি বোলারদের ধারাবাহিক আঘাতে শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানেই গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়ার ইনিংস।
বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রাখেন জীবন। ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৫ রানের পর বল হাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। মালয়েশিয়ার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন জীবন। তার সঙ্গে মারুফ মৃধা ও স্বাধীন ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়ে মালয়েশিয়ার ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দেন।









