মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেয়া সম্পর্কে যে বার্তা দিল পাকিস্তান

image_pdfSaveimage_print

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন সদস্যের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে  দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে নতুন কোনো রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করার আগে রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শ করা হবে। এসময় বাংলাদেশ প্রসঙ্গও তোলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ সংক্ষেপে এমজেডিএ স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি তেলের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই চুক্তিটি যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই চুক্তির একটি প্রধান শর্ত হলো—চুক্তিবদ্ধ তিনটি দেশের কোনো একটির ওপর আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা চলমান রয়েছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বাংলাদেশ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি বলেন, একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এমন সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যারা যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান যে, এই চুক্তিতে যোগদানের জন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা রিয়াদ ও আঙ্কারায় থাকা সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই বিবেচনা করা হবে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির সার্বিক কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

এই সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি অঞ্চলের প্রধান তিনটি সামরিক শক্তিকে এক সুতোয় গেঁথেছে। পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক বাহিনীর অধিকারী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সামর্থ্য, কৌশলগত আঞ্চলিক প্রভাব এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। এর পাশাপাশি তুরস্ক সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যাদের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প।

 

সূত্র: আরব নিউজ

  • Related Posts

    বাংলাদেশের নদীপথে ভারতের নতুন বাণিজ্যযাত্রা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে নদীপথে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি পণ্যবাহী বার্জ ছেড়েছে গত ৫ অক্টোবর। স্বাধীনতার পর এই প্রথম উচ্চ আসাম…

    মদিনা অঞ্চলে ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের, অস্বীকার হুথিদের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর মদিনায় একটি ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি এক্সে বলেছেন, “মদিনায় ক্রুজ…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি শুরু

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি শুরু

    শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ

    শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ

    গভীর রাতে গুলশানের দুই ক্লাবে মাদকবিরোধী অভিযান

    গভীর রাতে গুলশানের দুই ক্লাবে মাদকবিরোধী অভিযান

    ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মাম-রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত

    • By Sara
    • অক্টোবর ১৫, ২০২৬
    • 14 views
    ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মাম-রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত

    বাংলাদেশের নদীপথে ভারতের নতুন বাণিজ্যযাত্রা

    • By Sara
    • অক্টোবর ১৫, ২০২৬
    • 12 views
    বাংলাদেশের নদীপথে ভারতের নতুন বাণিজ্যযাত্রা

    মদিনা অঞ্চলে ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের, অস্বীকার হুথিদের

    • By Sara
    • অক্টোবর ১৫, ২০২৬
    • 16 views
    মদিনা অঞ্চলে ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের, অস্বীকার হুথিদের