অনুমতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করতে গিয়ে আইআরজিসির পূর্ব-চিহ্নিত মাইন বেল্টে আঘাত হেনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উসকানিতে ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে নির্ধারিত আইনসম্মত নৌপথ পরিহার করার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনা সংস্থাগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে সংস্থাটির পাবলিক রিলেশনস বিভাগ।
আইআরজিসির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্যাঙ্কার দুটিকে আগেই মার্কিন এজেন্টরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল এবং বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগেই রহস্যজনকভাবে সেগুলোর ক্রু সদস্যদের সড়িয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ইরানি নৌবাহিনীর বারবার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ও সুনির্দিষ্ট সতর্কতা উপেক্ষা করে মার্কিন বলয়ে পরিচালিত জাহাজ দুটি একটি নির্দিষ্ট মাইনবহুল প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজ দুটিতে দাবানলের মতো আগুন ধরে যায়। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিজেদের তথাকথিত আধিপত্য জাহির করতেই মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাসমূহকে বিভ্রান্ত করছে এবং নিরীহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বলির পাঠা বানানোর চক্রান্তে মেতেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যারা আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট অনুমোদিত রুট উপেক্ষা করে মার্কিন অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে অতি শিগগিরই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। কোনো কোম্পানি যেন তাদের জলযান শত্রুপক্ষের হাতে তুলে না দেয়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর সমালোচনা করে আরও বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অতীতে বিয়ের অনুষ্ঠান বা বেসামরিক জমায়েতে হামলা চালিয়ে যেভাবে তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল, ঠিক একই কায়দায় তারা হরমুজ প্রণালিতেও ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ইরানি জনগণ ও প্রতিরোধ বাহিনী এই সস্তা কৌশলে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল সুনির্দিষ্ট সমঝোতা স্মারকের অধীনে অনুমোদিত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান। ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত বেআইনি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এবং ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা পর্যন্ত এই স্ট্র্যাটেজিক জলপথ পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করা হবে না। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, কোনো ধরনের পশ্চিমা আগ্রাসন বা বিভ্রান্তিকর প্রদর্শনী হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের ঐতিহাসিক এবং পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারবে না।
সূত্র: আল মায়াদিন










