আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের শক্ত ঘাঁটি খুঁজছেন, ঠিক সেই সময়েই তার এক বড় ধরনের পরিকল্পনায় বাধ সাধল সৌদি আরব। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুবরাজের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে সৌদি সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘হারেৎজ’-এর এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, তেল আবিবের আশা ছিল যৌথ সামরিক সহযোগিতার এই পদক্ষেপে দু’দেশের আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। যার সূত্র ধরে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম হতে পারে। তবে এই প্রত্যাশায় বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছে। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় রিয়াদকে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন, তবু সৌদির সঙ্গে এখনও ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। রিয়াদ বরাবরই কঠোর অবস্থানে থেকে জানিয়ে দিয়েছে যে, ফিলিস্তিনি সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া স্বাভাবিকীকরণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অথচ নিজের নির্বাচনকালীন ভাষণে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন যেকোনো মূল্যে ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে ইসরায়েলের এই আবেদন নাকচ করে দেওয়ার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব হুথিদের ঘন ঘন হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব হামলায় বিমান চলাচল খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াদ কর্তৃপক্ষ শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং বহু এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি










