বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাবিরুল আলমসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসরণ না করা এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের খুলনা কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের উপপরিচালক বায়েজিদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে মামলার অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা মামলার মাধ্যমে তদন্তের আওতায় আসবে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান এবং মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমানকে। এ ছাড়া খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাবিরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরমান হোসেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মুতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস এবং উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান মামলার আসামি হয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও শর্ত অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে কাজের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা অর্থের বিপরীতে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, কাজের মান ও পরিমাণ নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না এবং অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের দোষ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনো বাকি।
এদিকে, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা সফরে গিয়ে সড়কটির নির্মাণকাজে প্রায় ১৩ বছর ধরে চলা বিলম্বের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময়েও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়নকাজ নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, নির্মাণকাজের বাস্তব অবস্থা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় কতটুকু, তা নির্ধারিত হবে।









