বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘রিভার’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য, ব্যাপক অনিয়ম এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলজিইডির সদর দপ্তরে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম (নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম ব্যবহৃত) সম্প্রতি বিএফআইইউর নির্বাহী পরিচালক বরাবর এই অভিযোগ দায়ের করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অভিযোগের অনুলিপি দুদকের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের প্রধানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পিডি মো. আতিকুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বিভিন্ন সূত্রেও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমের সাহায্যে আমেরিকায় পাচার করে সেখানে বাড়ি ক্রয়, পরিবারকে সেটেল করা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ডে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এবং সেখানেও অর্থ স্থানান্তরের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বরিশাল জেলায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন আতিকুল ইসলাম। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের সঠিক বাস্তবায়ন না করে ঠিকাদারদের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে এলজিইডির সদর দপ্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রেসিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর এডাপটেশন এন্ড ভালনারএবিলিটি রিডাকশন (রিভার)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পুনরায় দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সেই সিন্ডিকেট সক্রিয় করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে মো. আতিকুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী-সন্তান এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে দেশে ও বিদেশে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে—থাকা সকল ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে তাদের ব্যাংক হিসাব জরুরি ভিত্তিতে ফ্রিজ বা জব্দ করার জোরালো দাবি জানানো হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ, অর্থ পাচার বন্ধ এবং এলজিইডির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে আনীত এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আতিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অভিযোগপত্র সম্বলিত বার্তা পাঠিয়ে মতামত চাওয়া হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।









