ডেস্ক নিউজঃ লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে অর্জনের তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে সেখানে নতুন কিছু যোগ করার সুযোগ খুব কমই থাকে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অগণিত ব্যক্তিগত ও দলীয় শিরোপা সবই জিতেছেন আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক। কিন্তু একটি বিষয় এতদিন অপূর্ণই ছিল। সেটি হলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ম্যাচে মাঠে নামা।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রায় ২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারেননি মেসি। এর পেছনে রয়েছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় তখনকার ১৮ বছর বয়সী মেসির। সে সময় বয়সভিত্তিক বিশ্ব আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামিয়ে তাকে অভিষেকের সুযোগ দেন কোচ হোসে পেকারমান। কিন্তু স্বপ্নের সেই দিনটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে সময় লাগে মাত্র ৪৭ সেকেন্ড।
মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই হাঙ্গেরির এক রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মেসির জার্সি টেনে ধরেন। নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে হাত সরানোর চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু ম্যাচের রেফারি সেটিকে কনুই দিয়ে আঘাত হিসেবে দেখেন এবং সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন তাকে।
ম্যাচ শেষে হতাশ মেসি জানান, প্রতিপক্ষ তার জার্সি ধরে রেখেছিল। নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন মাত্র। কিন্তু রেফারি ভেবেছেন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দিয়েছেন। এমন অভিষেকের স্বপ্ন তিনি কখনো দেখেননি।
ঘটনার প্রায় দুই দশক পর সেই হাঙ্গেরিয়ান খেলোয়াড়ও স্বীকার করেন, তিনি নিজেই মেসির জার্সি টেনেছিলেন। তার দাবি, মেসির উদ্দেশ্য আঘাত করা ছিল না, বরং নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়া। এমন একটি প্রীতি ম্যাচে লাল কার্ড দেখানো হবে, সেটিও তিনি কল্পনা করেননি।
সেই লাল কার্ডের কারণেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয় মেসিকে। আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই নিষেধাজ্ঞাই কার্যকর হয় ২০০৫ সালের নভেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচে। ফলে সেদিন মাঠে নামতে পারেননি মেসি। বেঞ্চে বসেই দেখতে হয় পুরো ম্যাচ। ওই ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
এরপর দুই দলের আর কোনো ম্যাচে মেসির খেলার সুযোগ হয়নি। একদিকে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া কমেছে, অন্যদিকে নানা টুর্নামেন্টের সূচির কারণেও দুই দলের দেখা হয়নি।
এদিকে এই দীর্ঘ সময়ে মেসি দেশের হয়ে ১২৫টিরও বেশি গোল করেছেন। আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতিয়েছেন, দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন। এরপর বিশ্বকাপও জিতেছেন এবং দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে গিয়েছিল।
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর মেসি বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা তার জন্য বিশেষ অনুভূতির। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের স্মৃতি তিনি শুধু ভিডিওতেই দেখেছেন। তবে বর্তমান আর্জেন্টিনা দল প্রতিপক্ষকে ভয় পায় না। ইংল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। আর শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলাই সব সময় বিশেষ।
মেসি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এটাই হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রথম ম্যাচ। প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই তিনি খেলেছেন, শুধু ইংল্যান্ড বাদ ছিল। তাই এই ম্যাচটি তার জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ৪৭ সেকেন্ডের সেই দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে এবার প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন লিওনেল মেসি।









