বিশেষ প্রতিবেদক: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের (সিসিআইঅ্যান্ডই) ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ে সেবা প্রদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে আইআরসি (ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) ও ইআরসি (এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) সংক্রান্ত সেবা পেতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এতে নতুন উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং সরকারের রাজস্ব আহরণও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সাধারণত দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন নিরুৎসাহিত করা হলেও উপ-নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল্লাহ প্রায় আট বছর ধরে একই কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া উপ-নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সহকারী নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আইআরসি ও ইআরসি নবায়ন কিংবা নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়। কখনও অতিরিক্ত সদস্যপদ সনদ, আবার কখনও ব্যাংক কর্তৃক সত্যায়িত পিআই কপিসহ বিভিন্ন কাগজপত্রের অযৌক্তিক দাবি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরামর্শ চাইতেও অনেক সেবাগ্রহীতাকে অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল্লাহ এর আগে জিটিসিএলে কর্মরত থাকাকালেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সময়ের কার্যক্রম তদন্ত করা হলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে দাবি করেছে একটি সূত্র। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে নেই।
এদিকে ওবায়দুল্লাহর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, তিনি ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক মাসুদুল মান্নানের ঘনিষ্ঠতার কারণে ওবায়দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। একই সঙ্গে আইআরসি, ইআরসি ও শিল্প-সংক্রান্ত নিবন্ধন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এ বিষয়ে উপ-নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল্লাহ এবং নিয়ন্ত্রক মাসুদুল মান্নানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টরা।











