গ্রাম পুলিশের বর্ধিত বেতন, আনুতোষিক ভাতা ও যাতায়াত ভাতা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে এ ঘোষণা দেন তিনি।
গ্রাম পুলিশ ও তাদের পরিবারের কিছুটা সচ্ছল জীবনযাপনের বিষয়ে সরকারের নজর রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো গ্রাম পুলিশের জন্য ঈদ বোনাস ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, যা কার্যকরও হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সারা দেশে ৪০ হাজারেরও বেশি গ্রাম পুলিশের পরিবার-পরিজনের স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন-জীবিকার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পদবি পরিবর্তন করে গ্রাম পুলিশ করা হয়েছে। তবে শুধু পদবি পরিবর্তনই নয়, গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। মহাসমাবেশ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
বর্ধিত বেতনের হিসাব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে গ্রাম পুলিশের মাসিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার টাকা, তা বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানের বর্তমান বেতন ৮ হাজার টাকা, বাড়িয়ে করা হয়েছে ১১ হাজার টাকা।’
পাশাপাশি অবসরকালীন বিদ্যমান আনুতোষিক ভাতাও বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আনুতোষিক ভাতা ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের আনুতোষিক ভাতা ৮৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। আর তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রত্যেক সদস্যকে মাসিক ১০০ টাকা করে মোবাইল বিল দেয়া হবে। থানায় প্রতি সপ্তাহে হাজিরার জন্য ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের থানায় যাতায়াত ভাড়া ৬০০ টাকা করা হয়েছে।’
বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র এবং সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে নারীর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সরকার এরই মধ্যে সারা দেশে ১ লাখ হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার হবেন নারী হেলথ ওয়ার্কার। পাশাপাশি আজ ঘোষণা দিচ্ছি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুনভাবে আরও দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করা হবে। সেই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি আজ থেকে ছয় মাস করা হলো।’
গ্রাম পুলিশের কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ রাস্তা ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।









