বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগের সময়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবকে ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম, বিপুল সম্পদ অর্জন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং একটি হত্যা মামলায় নাম আসার বিষয় নিয়ে তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ বণ্টন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটি প্রভাবশালী চক্র তৈরি হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় কমিশন বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
গণপূর্ত বিভাগের কিছু সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে চাকরির আয়ের তুলনায় বেশি সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তার নামে ও বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বাইরে অর্থ স্থানান্তর বা অর্থপাচারের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আহসান হাবীব প্রশাসনিকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। তার সঙ্গে ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠতার কথাও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্ব পায়নি বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও তার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজধানীর পল্টন এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় মো. আহসান হাবীবের নাম আসার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই মামলায় তাকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কোনো মামলা আছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
মামলায় নাম আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ বা সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষেও এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে ভয় পেতেন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আহসান হাবীবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য বের করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং মামলার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।










