বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা জানান তিনি।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী এলাকার তুরাগ নদের ঘাট থেকে তাহসিফ সৌরি মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সৌরি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় বসবাস করতেন।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় চাকরি ফিরে পাওয়া ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের প্রশিক্ষণ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে তাহসিফ সৌরির মৃত্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এই বিষয়ে এখনই কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না, কারণ একটা প্রাথমিক তদন্ত হতে হবে এবং লাশের পোস্টমর্টেম হচ্ছে। তারপরে আমরা সব বিষয় জেনে বলতে পারব।
তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা নাই যা সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের শনাক্ত করা, গ্রেফতার করা, তদন্ত করা এবং বিচার সম্পন্ন করার কাজ সফলভাবে করা হয়নি; দুই-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে এখন একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল। তারা একটি স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি ছিল এবং অরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণিত করে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা বাংলাদেশে ১৪০০-এর বেশি (জাতিসংঘের হিসাব মতে) এবং আমাদের হিসাব মতে ২০০০-এরও বেশি মানুষ হত্যা ও গণহত্যা চালিয়েছে। তারা এখনো পর্যন্ত কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। উল্টো তারা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদী তকমা দিতে চেয়েছিল। তারা যে আবার গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে আসতে চায়, এ দেশের জনগণ কখনো তা গ্রহণ করবে না এবং সে সুযোগ দেবে না।
শেখ হাসিনার দেশে আসার ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেন, কে কখন আসতে চাচ্ছে না চাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা মোটেও বিচলিত নই। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর; যে-ই আসুক না কেন, তাদেরকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতা নেয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমার ঘটনা বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
সব ধরনের ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্বকে উপেক্ষা করে জনমানুষকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, মানবপাচার এবং সংবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা পুলিশের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যে কোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলার জন্য সংবিধান এবং দেশের মৌলিক আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের ন্যায় পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমান্বয়ে পুলিশ উন্নীত হচ্ছে।








