বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-কাফরুল এলাকায় জাহাঙ্গীর লতিফ নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সঙ্গে জাহাঙ্গীর লতিফের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং সাচ্চুর অর্থ-সম্পদের একটি অংশ জাহাঙ্গীর লতিফের কাছে গচ্ছিত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ছাত্র হত্যার ঘটনাগুলোর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তাদের দাবি, ওই সময় তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। তার শ্বশুর মতিউর রহমান, শাশুড়ি দিলারা রহমানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রোমানা জাহাঙ্গীরও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেননি মান সম্মান ও মেরে ফেলার হুমকীর কারনে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, গৃহকর্মীর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফ দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তার বাসায় এখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, গাজীপুরে জাহাঙ্গীর লতিফের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ নেই। জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর লতিফের বক্তব্য জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
সংবাদটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান: জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, সহিংসতা, নির্যাতন , ছাত্র হত্যা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সত্যতা উদঘাটন করা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।











