বিশেষ প্রতিবেদকঃ পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে টেন্ডার কার্যক্রম, বিল অনুমোদন এবং কমিশন বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (সিএসটিই-পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ্ তুষার। ঠিকাদার ও রেলওয়ের একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে সীমিত সংখ্যক ঠিকাদার কাজ পাচ্ছেন। নতুন ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হয় এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডারের ধরন ও কাজের পরিমাণ অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। কমিশন না দিলে ফাইল অনুমোদন, ওয়ার্ক অর্ডার, বিল প্রস্তুত, পরিমাপ বই (এমবি) স্বাক্ষর এবং চেক ছাড়ে অযথা বিলম্ব করা হয়। অনেক ঠিকাদারের অভিযোগ, নানা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে তাদের হয়রানির মধ্যে রাখা হয়। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দামে মালামাল কেনার সুযোগ তৈরি করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রেল সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, তারেক মোহাম্মদ শামছ্ তুষারের নামে-বেনামে একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। এসব লাইসেন্সের মাধ্যমে কৌশলে ই-জিপির টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব রেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন ও ক্রয়কাজ হয়। এসব প্রকল্প থেকে কমিশন আদায়ের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের প্রভাবের কারণে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা যায়, তারেক মোহাম্মদ শামছ্ তুষার ২০১৯ সালে পূর্ব রেলের অতিরিক্ত প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, ওই সময়েও বিভিন্ন প্রকল্প ও ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন প্রকল্পসহ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কয়েকটি প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই চিঠি বিভাগের প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদারের কাছে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে তারেক মোহাম্মদ শামছ্ তুষার দাবি করেন, দুদকের চাওয়া প্রয়োজনীয় তথ্য ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রথমে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন তারেক মোহাম্মদ শামছ্ তুষার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বক্তব্য দেবেন। পরে অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার হওয়ায় কমিশন নেওয়ার সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের অভিযোগ করেছেন, তাকে সামনে আনারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম করে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই নিতে হবে। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রকৌশলী তারেক মোহাম্মদ শামছ্ তুষারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলেও জানান।
তবে উল্লেখ্য, তারেক মোহাম্মদ শামছ্ তুষারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।











