লোহাগড়ায় বিদ্যুতের ‘লুকোচুরি’, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক; সাব-স্টেশনে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

image_pdfSaveimage_print

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই, কখন বিদ্যুৎ যাবে কিংবা কখন ফিরবে—তারও নেই স্পষ্ট তথ্য। ফলে নড়াইলের লোহাগড়ায় অনিয়মিত লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি বিভ্রাটের কারণ ও সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে সঠিক তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, লোহাগড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে অনেক সময় আগাম কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরাও সমস্যায় পড়ছেন।

দায়িত্বে থাকা কর্মী ঘুমিয়ে ছিলেন—এমন অভিযোগ

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই পরিস্থিতির মধ্যেই লোহাগড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাব-স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী ইমন নামে এক কর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন গ্রাহক।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় সমস্যার বিষয়ে জানতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, দায়িত্বে থাকা ওই কর্মী ঘুমিয়ে ছিলেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিভ্রাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর পক্ষ থেকে ‘ঘুমিয়ে গেলে কিছু করার নেই’—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে ওই কর্মী সত্যিই দায়িত্ব পালনের সময় ঘুমিয়ে ছিলেন কি না এবং তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী ছিল—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন উঠছে জবাবদিহি নিয়ে

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাজই হলো নির্ধারিত দায়িত্ব পালন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা। সেখানে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একজন কর্মীর আচরণের প্রশ্ন নয়; বরং পুরো সেবা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

গ্রাহকদের প্রশ্ন—কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে, এর কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা আছে কি না এবং হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রাহকদের তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কার?

একই সঙ্গে আরও প্রশ্ন উঠেছে, দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠলে সেটি যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কোনো তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে কি না।

গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ কোথায়?

স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু সমস্যা হলে তার সঠিক কারণ, সম্ভাব্য স্থায়িত্ব এবং সমাধানের উদ্যোগ সম্পর্কে গ্রাহকদের জানানো জরুরি।

তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় কোথায় যোগাযোগ করতে হবে কিংবা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে সাধারণ মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ী, অনলাইনভিত্তিক কাজ করা ব্যক্তি এবং বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের জন্য দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর্থিক ও দৈনন্দিন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

গ্রাহকদের দাবি, লোহাগড়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি কার্যকর পর্যালোচনা করা দরকার। লোডশেডিংয়ের বাস্তব চিত্র, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের উপস্থিতি এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

একই সঙ্গে সাব-স্টেশনে দায়িত্বে থাকা কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাঁদের।

বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে এর পেছনে ব্যবস্থাপনাগত কোনো দুর্বলতা আছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

এখন দেখার বিষয়, লোহাগড়ার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

  • Related Posts

    কক্সবাজারে এবার হোটেলে আগুন, সৈকতে ছুটলেন পর্যটকেরা

    ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে ‘দ্য সি প্রিন্সেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় হোটেলটিতে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পরপরই তারা সবাই নিরাপদে…

    নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১১ জেলের কারাদণ্ড

    লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের দায়ে ১১ জেলেকে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রাশিয়ার ডিজেলবাহী জাহাজ

    • By Sara
    • অক্টোবর ২৩, ২০২৬
    • 0 views
    নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রাশিয়ার ডিজেলবাহী জাহাজ

    কক্সবাজারে এবার হোটেলে আগুন, সৈকতে ছুটলেন পর্যটকেরা

    • By Sara
    • অক্টোবর ২৩, ২০২৬
    • 3 views
    কক্সবাজারে এবার হোটেলে আগুন, সৈকতে ছুটলেন পর্যটকেরা

    টেস্ট দল থেকে সৌম্যের বাদ পড়ার কারণ জানালেন প্রধান নির্বাচক

    • By Sara
    • অক্টোবর ২৩, ২০২৬
    • 5 views
    টেস্ট দল থেকে সৌম্যের বাদ পড়ার কারণ জানালেন প্রধান নির্বাচক

    উইন্ডিজের বিপক্ষে ড্রয়ে শেষ বিসিবি একাদশের প্রস্তুতি ম্যাচ

    • By Sara
    • অক্টোবর ২৩, ২০২৬
    • 5 views
    উইন্ডিজের বিপক্ষে ড্রয়ে শেষ বিসিবি একাদশের প্রস্তুতি ম্যাচ

    প্রকাশ্যে এল টাইগার শ্রফের শরীরের ক্ষতের দৃশ্য

    • By Sara
    • অক্টোবর ২৩, ২০২৬
    • 5 views
    প্রকাশ্যে এল টাইগার শ্রফের শরীরের ক্ষতের দৃশ্য

    নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১১ জেলের কারাদণ্ড

    নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১১ জেলের কারাদণ্ড