বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আইনি নোটিশে আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে আগে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান আবার শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের মাধ্যমে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একসময় দুদক অনুসন্ধানও শুরু করেছিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সেই অনুসন্ধানের অগ্রগতি কতদূর, কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে কিংবা অভিযোগের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও আগের অনুসন্ধান দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পায়নি। এ কারণে বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখা এবং আগের অনুসন্ধান কার্যক্রম পুনরায় সচল করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ফ্যাক্টরি অনুমোদন ও নবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ
ড. মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা পরিদর্শন, নতুন অনুমোদন এবং পুরোনো কারখানার লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়েছে আইনি নোটিশে।
এতে দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন না করেই ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই পুরোনো কারখানার লাইসেন্স নবায়নের ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ওষুধ উৎপাদনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ওষুধ পাওয়ার বিষয়টিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ, কোনো ওষুধ কারখানার অনুমোদন দেওয়ার আগে তার অবকাঠামো, উৎপাদনব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং মান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ পরিদর্শন ছাড়া অনুমোদন বা নবায়ন দেওয়া হলে নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর দেশের ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন এবং নিরাপদ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওষুধ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উদ্যোক্তা ও ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঔষধ প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ অবস্থায় ড. মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তদন্ত, আগের দুদক অনুসন্ধানের নথি পর্যালোচনা এবং ফ্যাক্টরি অনুমোদন ও নবায়নের প্রক্রিয়ায় কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে আইনি নোটিশে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ড. মো. আকতার হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দুদকের পক্ষ থেকেও আইনি নোটিশের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










